ক্রিকেটের আধুনিকায়নে নারীদের ভূমিকা কম নয়। ক্রিকেটের শেকড়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু মাইলফলক দাড় করিয়ে গেছেন তারা। কখনও ক্রিকেটার হয়ে, কখনও বা ক্রিকেটারের মা হয়ে। সেই সাদাকালোর যুগ থেকে শুরু করে আজকের রঙিন ক্রিকেট; যাদের হাত ধরে ক্রিকেট পেয়েছে আরো জৌলুশ, তেমন কিছু নারীদের নিয়েই নারী দিবসের এই বিশেষ আয়োজন।

ক্রিশ্চিন উইলস। ছবিঃ সংগৃহীত

১/ক্রিশ্চিন উইলস:

এ যুগে ক্রিকেটে যেটাকে আর্ম বল বলা হয়, তার শুরুটা কবে বা কার হাতে? বলতে পারেন? জেনে অবাক হবেন, এই আর্ম বলের উদ্ভাবক একজন নারী ক্রিকেটার। নাম ক্রিশ্চিন উইলস, দেশ অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু সময়টা এতই আগে ছিল যে সেটাকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি ক্রিকেটে। ক্রিশ্চিনার ভাই জন যিনি কেন্টের হয়ে  ক্রিকেট খেলতেন তিনি দায়িত্ব নিলেন এবং ওভার আর্ম ডেলিভারী আরো বড় মঞ্চে তুলে ধরলেন। জনের ওভার আর্ম বোলিং স্টাইল এতোই জনপ্রিয় এবং বিধ্বংসী ছিলো যে ১৮১৬ সালে এই বোলিং স্টাইল নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।
১৮৬৪ সালে ওভার আর্ম বোলিং বৈধ ঘোষণা করা হয়। অনেকের মতে, ওই দিনটিই ছিলো আধুনিক  ক্রিকেটের নতুন দিনে সূচনার।

২/ জেন স্পেইট:

জেন স্পেইট নামটি একদমই পরিচিত না কারণ তিনি কখনই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেননি। তাকে প্রথম পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি সাবেক ক্রিকেটার জিওফ্রে বয়কট। তার লেখা একটি  বইয়ে জেনকে বর্নণা করতে গিয়ে লিখেছিলেন, ‘জেন স্পেইট একটা টুথব্রাশ হাতে নিয়েও তৎকালীন অনেক ক্রিকেটারের চাইতে ভালো খেলতে পারতেন’। বয়কটের বইয়ের সুবাদেই  ’৯০ এর দশকে মরণোত্তর খ্যাতি অর্জন করেন জেন।


ফ্রান্সেস এডমন্ড। ছবিঃ সংগৃহীত

৩/ ফ্রান্সেস অ্যাডমন্ডস:

ফ্রান্সেস অ্যাডমন্ডস চাইলেই ১৯৮৫-৮৬ সালের ইংল্যান্ড নারী ক্রিকেট দলের একজন সদস্য হতে পারতেন। হয়তো ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ভরাডুবি থেকেও দলকে বাঁচাতে পারতেন। কিন্তু তিনি সুযোগ পাননি। তবে ফ্রান্সেস ‘Another Bloody Tour’ নামের একটি বই লিখেছিলেন। যেখানে ইংল্যান্ড দলের ব্যার্থতার পাশাপাশি কিছু আবেগি কথাও ছিল। যা পরবর্তীতে ইংল্যান্ডের ক্রিকেটে পবিত্র বাক্যের মতো মেনে চলা হত।

৪/ আমির বাই:

ভারতের স্বাধীনতা পূর্ববর্তী সময়ে আমির বাই একজন জাতীয় ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়ন ছিলেন। পাশাপাশি ছিলেন একজন মা। তবে সাধারণ মা নয়। তার পাঁচ ছেলের, প্রত্যেকেই ছিলেন ক্রিকেটার। দেশভাগের পরে তার পরিবার পাকিস্তানে চলে গেলে তার ছেলেরা ক্রিকেটের  সাথে এতটাই সম্পৃক্ত হয়ে পড়েন, যে তাকে এক নামে সবাই ক্রিকেটমাতা হিসেবে চিনতো।

তার তৃতীয় ছেলে হানিফ মোহাম্মদ পাকিস্তানের হয়ে প্রথমবারের মতো টেস্ট ক্রিকেট খেলতে নামে ভারতের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট ম্যাচে। বড় ছেলে ওয়াজিরও একই সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে অভিষেক হয়েছিল। দ্বিতীয় ছেলে রাইইস একজন অলরাউন্ডার ছিলেন যিনি পাকিস্তানের প্রথম হোম ম্যাচে দ্বাদশ ব্যক্তি হিসেবে দলে ছিলেন। চতুর্থ ছেলে মুশ্তাক ছিলেন এই খেলার একজন আন্ডাররেটেড চ্যাম্পিয়ন এবং সবচাইতে ছোটজন সাদিক ছিলেন একজন দারুণ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান।

এই পরিবারের ক্রিকেট সুত্র এখানেই শেষ হয় নি। হানিফের ছেলে শোয়েব একজন উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান ছিলেন, একইসাথে ওয়াজিরের ছেলে ওয়াকার ওয়ারউইকশায়ার অনুর্ধ-১৯ দলের হয়ে খেলতে গিয়েছিলেন।

এই মোহাম্মদ পরিবারের ক্রিকেট ধারা আরো এক প্রজন্ম এগিয়ে যায় যখন শোয়েবের ছেলে শেহজাদ ২০০৯ সালে প্রথম শ্রেনীর ক্রিকেট খেলতে নামেন।

Advertisements