দুই ধারে ভারত মহাসাগর আর মাঝখানে অবস্থিত গল ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়াম। উঁচু দুর্গ, সমুদ্র, নয়নাভিরাম পরিবেশ আর সবুজ মাঠ এই মিলিয়ে গল স্টেডিয়াম। আগামী সাত মার্চ এই গলে স্টেডিয়ামেই সিরিজের প্রথম টেস্টে লঙ্কানদের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।

গলে খেলা ২৮টি টেস্ট ম্যাচে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা ১৬টিতেই জিতেছে, হেরেছে ছয়টিতে। আর ড্র হয়েছে বাকি ছয়টি ম্যাচ। এ যেন সিংহেরই ডেরা! অতীত পরিসংখ্যান বলছে, সিংহের এই ডেরায় বাংলাদেশের বাঘদের জন্য ভয়ঙ্কর কিছুই অপেক্ষা করছে!

তবে গলে বলার মতো অর্জনও আছে বাংলাদেশের। টেস্টে শ্রীলঙ্কায় একমাত্র এই মাঠেই কেবল হারেনি বাংলাদেশ। ২০১৩ সালে এখানে খেলা একমাত্র টেস্টে ড্র করেছিল মুশফিকুর রহিমের দল। ওই ম্যাচে বাংলাদেশের ৬৩৮ রান এখনও গলের সর্বোচ্চ সংগ্রহ।

এমনকি মোহাম্মদ আশরাফুলকে সাথে নিয়ে মুশফিকের ২৬৭ রানের জুটি গলে যে কোনো উইকেটেই সর্বোচ্চ।

তবুও ভয় থাকছেই। কুমার সাঙ্গাকারা, মাহেলা জয়াবর্ধনে, মুত্তিয়া মুরালিধরনরা না থাকলেও এই গলে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারেন দীনেশ চান্দিমাল-রঙ্গনা হেরাথরা। বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে অপরাজিত ১৯০ রানের ইনিংস খেলা চান্দিমাল এই মাঠে বরাবরই উজ্জ্বল। গলে সাত ম্যাচে ১২ ইনিংসে ৬৩.২০ গড়ে ৬৩২ রান করেছেন লঙ্কান এই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান।

আসন্ন শ্রীলঙ্কা-বাংলাদেশ সিরিজে লঙ্কানদের নেতৃত্ব দেবেন রঙ্গনা হেরাথ। ছবি: সংগৃহীত

এছাড়া বল হাতে গল টেস্টে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারেন বাংলাদেশের বিপক্ষে লঙ্কানদের অধিনায়কের দায়িত্বে থাকা রঙ্গনা হেরাথ। ২৩.৮৮ গড়ে তার ঝুলিতে রয়েছে ৮৪ উইকেট। গলে বাঁহাতি এই স্পিনার পাঁচ উইকেটের দেখা পেয়েছেন মোট আটবার। আর দুই ইনিংস মিলিয়ে ১০ উইকেটের দেখা পেয়েছেন তিনবার।

শ্রীলঙ্কার মাটিতে বাংলাদেশ সর্বশেষ টেস্ট খেলেছে ২০১৩ সালে। এর এক বছর পর বাংলাদেশ সফরে আসে লঙ্কানরা। সেই সিরিজে তিন ফরম্যাট মিলিয়ে একটি ম্যাচে জয় পায় বাংলাদেশ। তিন বছর পর ঘরের মাটিতে আবারও বাংলাদেশের মুখোমুখি হচ্ছে শ্রীলঙ্কা। আগামী সাত মার্চ গল টেস্ট দিয়ে শুরু হবে দুই টেস্ট, তিনটি ওয়ানডে ও দুটি টি-টোয়েন্টির সিরিজ। গলে নিজেদের না হারার রেকর্ড টিকিয়ে রাখতে পারে কিনা মুশফিকবাহিনী, সেটাই দেখার অপেক্ষা।

Advertisements