মাঠে কোহলির আগ্রাসী মনোভাবটা ভালো লাগছে না অনেকেরই। ছবি: এএফপিমাঠে কোহলির আগ্রাসী মনোভাবটা ভালো লাগছে না অনেকেরই। কদিন আগেও বিরাট কোহলি ছিলেন সপ্তম স্বর্গে। হঠাৎই যেন নেমে এসেছেন মাটিতে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে চলতি সিরিজে তিন ইনিংসে ভারতীয় অধিনায়কের রান ২৫। ইনিংস লম্বা হচ্ছে না। তার চেয়ে বেশি চোখে লাগছে কোহলির আউটের ধরন। ভারতের সমর্থকদের প্রার্থনা, দ্রুত স্বরূপে ফিরবেন কোহলি। তবে মাঠে কোহলি আছেন সেই চিরচেনা আগ্রাসী চেহারাতেই। ভারতীয় অধিনায়কের এই রূপ নিয়ে বিরক্ত অস্ট্রেলিয়ার সাবেক খেলোয়াড়দের অনেকেই।কোহলির ব্যাটিংয়ের কারণে তাঁর অন্য রকম একটা শ্রদ্ধাবোধ আছে। তবে মাঠে আচরণের কারণে কোহলির প্রতি অস্ট্রেলিয়ার সাবেক উইকেটকিপার ইয়ান হিলির সেই শ্রদ্ধা নাকি কমতে শুরু করেছে। বেঙ্গালুরুতে ব্যাট-বলের লড়াইয়ের সঙ্গে জমে উঠেছে কথার লড়াইও। দ্বিতীয় দিন সকালের সেশনে স্মিথকে ভেংচি কেটেছিলেন ভারতের পেসার ইশান্ত শর্মা। এ নিয়ে স্মিথের আর কোহলির বাতচিতও হয়েছে। কোহলি পরেও কয়েকবারই মুখোমুখি হয়েছেন দুজন। স্মিথের সঙ্গে কথা বলার সময় কোহলির আগ্রাসী ভাবটা ভালোভাবে নেননি হিলি। ১১৯ টেস্ট খেলা সাবেক এই অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটার মনে হয়েছে এতে প্রতিপক্ষকে অসম্মান করা হয়, ‘তার (কোহলি) প্রতি শ্রদ্ধা হারিয়ে ফেলছি। সে শুধু অস্ট্রেলিয়ান খেলোয়াড় ও আম্পায়ারকে অসম্মান করছে না, নিজের সতীর্থদের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। আগেও বলেছি, আমার দেখা সেরা ব্যাটসম্যান সে। তার আগ্রাসী মানসিকতাও দারুণ, বিশেষ করে সে যখন অধিনায়ক ছিল না।’
গত দুই বছরে ঘরের মাঠে ভারতের টানা সাফল্যে প্রশংসিত হয়েছে কোহলির আগ্রাসন। তবে হিলি মনে করেন, ভারতীয় অধিনায়কের এই মনোভাব এখন আর কাজে দিচ্ছে না, ‘কোহলির আক্রমণাত্মক মনোভাব তাদের (ভারতীয় দল) জন্য ভালো ছিল। আমি মনে করি, এখন আর এটি কাজে লাগছে না। এটা বরং সতীর্থদের চাপে ফেলে দিচ্ছে। এই চাপটা আপনি অশ্বিনের মুখেও দেখে থাকবেন। স্টিভ স্মিথের সঙ্গে সে যা করেছে সেটা গ্রহণযোগ্য নয়।’
তবে হিলির সঙ্গে একমত নন অস্ট্রেলিয়ার আরেক সাবেক ক্রিকেটার সাইমন ক্যাটিচ। ৫২ টেস্ট খেলা সাবেক এই অস্ট্রেলীয় বাঁহাতি ওপেনার বরং এটাকে ইতিবাচকই মনে করছেন, ‘তারা দুজন (স্মিথ-কোহলি) দারুণভাবে সব সামলাচ্ছে। মেজাজ হারানোর মতো অনেক কিছুই হয়েছে মাঠে। ভারত উইকেটের জন্য মরিয়া ছিল। তারা জানে, স্মিথের উইকেটটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। স্মিথও বিষয়টা সামলেছে ভালোভাবেই। আম্পায়ারও ভালোভাবে সামলেছে। দুই অধিনায়কও কৃতিত্ব পাবে। ঘটনাটা দ্রুতই নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে যেতে পারত।’ সূত্র: ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া।

Advertisements