বর্ষসেরা নির্বাচিত হয়ে দুবাই থেকে ভিডিও বার্তায় যা বললেন তামিম ইকবাল

বর্ষসেরার আনন্দ উপভোগ করছেন টাইগার তামিম। না থেকেও ছিলেন তামিম ইকবাল! পিএসএল খেলতে তিনি এখন আরব আমিরাতে। পিএসএল খেলতে তিনি এখন আরব আমিরাতে। বর্ষসেরা হওয়ার আনন্দ তাই জানালেন ভিডিও বার্তায়।কখনো হতাশ হয়ে ফিরেছেন। কখনো হয়েছেন অভিমানী। মনের মধ্যে লুকিয়ে রাখা স্বপ্ন চুরমার হয়ে গেছে আলোকিত সন্ধ্যায়। ২০১৬ সাল পর্যন্ত মোট তিনবার প্রথম আলোর বর্ষসেরা পুরস্কার অনুষ্ঠান থেকে রানারআপ হয়ে ফিরে যেতে হয়েছে তামিম ইকবালকে।

কাল সোনারগাঁও হোটেলে দূর হয়ে গেল তাঁর সব যন্ত্রণা। জুরিদের নির্বাচনে রূপচাঁদা-প্রথম আলো ক্রীড়া পুরস্কার ২০১৬-এর বর্ষসেরা খেলোয়াড় হয়েছেন জাতীয় ক্রিকেট দলের বাঁহাতি ওপেনার তামিম ইকবাল। বর্ষসেরার পুরস্কার এই প্রথম যৌথভাবে দেওয়া হলেও পাঠকের ভোটে বর্ষসেরা নির্বাচিত হয়েছেন তামিম একাই। এই পুরস্কারে প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন তাঁর আরও চার সতীর্থ মাশরাফি বিন মুর্তজা, মেহেদী হাসান মিরাজ, মোস্তাফিজুর রহমান ও সাকিব আল হাসান।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে পিএসএল খেলতে যাওয়া তামিমের হয়ে বর্ষসেরার পুরস্কার নিয়েছেন তাঁর বোন উরুসা খান। পুরস্কারতুলে দিয়েছেন সব্যসাচী ক্রীড়াবিদ বশীর আহমেদ। প্রবীণ ক্রীড়া সাংবাদিক ও সাবেক ক্রিকেটার কামরুজ্জামান পাঠকের ভোটে বর্ষসেরার পুরস্কার তুলে দিয়েছেন তামিমের চাচা জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও বিসিবি পরিচালক আকরাম খানের হাতে।

২০০৯, ২০১০ ও ২০১৫ সালে বর্ষসেরা রানারআপ হয়েছিলেন তামিম। কিন্তু ২০১৬ সালটা তিনি শেষ করেছেন বর্ষসেরা হওয়ার দাবি নিয়েই। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২ টেস্টের চারটি ইনিংস—৭৮, ৯, ১০৪, ৪০। ৫৭.৭৫ গড়ে মোট ২৩১ রান। গত বছর বাংলাদেশের পক্ষে যা টেস্টে সর্বোচ্চ রান। সেঞ্চুরিটির বড় অবদান ছিল ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১০৮ রানের স্মরণীয় টেস্ট জয়ে।

গত বছর ওয়ানডেতেও বাংলাদেশ দলের সর্বোচ্চ (৪০৭) রান তামিমের, গড় ৪৫.২। ৯ ওয়ানডেতে সেঞ্চুরি একটি ও ফিফটি দুটি। টি-টোয়েন্টিতে ১১ ম্যাচ খেলে ৪০.৮৮ গড়ে করেছেন দলের হয়ে বছরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩৬৮ রান। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ওমানের বিপক্ষে করা তামিমের অপরাজিত ১০৩ রান এই সংস্করণের ক্রিকেটে বাংলাদেশের একমাত্র সেঞ্চুরির ইনিংস। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি রানও ছিল তাঁর।

অনুষ্ঠানে সশরীরে না থাকলেও ছিল তামিমের ভার্চ্যুয়াল উপস্থিতি। আরব আমিরাত থেকে ভাইবারে পাঠানো ভিডিও বার্তায় প্রথম বর্ষসেরার পুরস্কার পাওয়ার অনুভূতি জানাতে গিয়ে একটু আবেগাপ্লুতই মনে হলো টেস্ট দলের সহ-অধিনায়ককে, ‘এই পুরস্কারটিকে আমি অনেক গুরুত্ব দিই। সত্যি বলি, আগে বেশ কয়েকবার আমার প্রত্যাশা ছিল, আমি বর্ষসেরার পুরস্কার পাব। কিন্তু শেষ পর্যন্ত রানারআপ হতে হয়েছিল। এবার পেয়ে তাই খুব খুশি। সামনে বাংলাদেশের ক্রিকেটের ব্যস্ত সূচি আছে। এই পুরস্কার আমাকে অনুপ্রাণিত করবে। আশা করব, এ বছরও ভালো ক্রিকেট খেলতে পারব।’

তামিমের মতো আশা আকরাম খানেরও। ভ্রাতুষ্পুত্রের মধ্যে ছোটবেলায়ই ক্রিকেট প্রতিভার দেখা পেয়েছিলেন তিনি। সেই তামিম আজ বাংলাদেশের ক্রিকেটের অবিচ্ছেদ্য অংশ, বাংলাদেশ দলের বহু সাফল্য তাঁর ব্যাটের তুলিতেই আঁকা। তামিমের ট্রফি হাতে গর্বিত চাচা আকরাম খান বলছিলেন, ‘আশা করি, ও ভবিষ্যতে আরও ভালো খেলবে। আরও বড় সাফল্য পাবে।’
তিনবার বর্ষসেরা রানারআপ হয়েছেন। এবার হলেন বর্ষসেরা। যার অর্থ, কমপক্ষে চারবার বর্ষসেরার বিবেচনায় ছিলেন তিনি। বড় কৃতিত্বই বলতেই হবে!-প্রথম আলো

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s