বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের প্রথম টেস্ট নিয়ে এবারের এই মজার গল্প। তবে এই বাস্তবের চিত্র। কোনো কল্পনায় নয়। ভারতের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক হয় বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের। সেটি ২০০৭ সালে। কিন্তু ২০১০ সালের আগে তিনি টেস্ট সেঞ্চুরি পাননি। যদিও বেশ কয়েকবার তিনি ৯০ এর ঘরে আউট হয়েছেন

টেস্ট অভিষেকের পর প্রথম সেঞ্চুরিতে পেতে তাকে অপেক্ষা করতে হয়েছে ৩ বছর। সময়টা ২০১০ সাল। ফেব্রুয়ারি মাসের ১৫ তারিখ হ্যামিল্টনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ। মার্টিন গাপটিলের ১৮৯ ও ব্রেন্ডান ম্যাককালামের ১৮৫ রানে ভর করে ৭ উইকেট হারিয়ে নিউজিল্যান্ড তাদের প্রথম ইনিংসে সংগ্রহ করে ৫৫৩ রান।
জবাবে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ১১৫, সাকিব আল হাসানের ৮৭ ও তামিম ইকবালের ৬৮ রানে ভর করে বাংলাদেশ তাদের প্রথম ইনিংসে সংগ্রহ করে ৪০৮ রান। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে নিউজিল্যান্ড তিন হাফ সেঞ্চুরিতে ৫ উইকেট হারিয়ে ২৫৮ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা দেয়। তাতে বাংলাদেশের সামনে জয়ের লক্ষ্যমাত্রা দাঁড়ায় ৪০৪ রান।

সেই রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে সফরকারীরা। এরই মধ্যে ব্যতিক্রম হয়ে দাঁড়ায় সাকিব আল হাসান। টেস্টে শেষ দিনে (১৯ ফেব্রুয়ারি) রুদ্রমূর্তি ধারণ করেন সাকিব। নিউজিল্যান্ডে বাঘা বাঘা বোলারদের পিটিয়ে তুলোধুনো করেন। শেষ দিন সকালেই ৫৮ বলে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন সাকিব।
এরপর ১৩ বলে ৪০ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন। নিউজিল্যান্ডের খ্যাতিমান বোলার ড্যানিয়েল ভেট্টরির ৯ বলে তিনি ২৮ রান নেন! সাহসীকতার সঙ্গে ব্যাট চালিয়ে তুলে নেন টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি। শতক হাঁকানোর পরও বিপদ্দজনক শট খেলতে থাকেন তিনি। যার খেসারত তাকে দিতে হয়। দলীয় ২৫২ রানে টিম সউদির বলে বোল্ড হয়ে যান সাকিব।
ফলে তার প্রথম টেস্ট শতকটি আর বেশিদূর এগোতে পারেনি। ১০০ রানেই সাজঘরে ফেরেন তিনি। তিনি ফিরে যাওয়ার পর ২৮২ রানেই অলআউট হয়ে যায় সফরকারী বাংলাদেশ। আর নিউজিল্যান্ড জয় পায় ১২১ রানে

Advertisements