ভারতের বিপক্ষে ঐতিহাসিক টেস্টে সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন টাইগার দলপতি মুশফিক। এতেই বেশ কিছু রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন এই উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান।

২০০৫ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সাদা পোষাকে অভিষেক হয়েছিলো মুশফিকুর রহিমের। সেরাটা দিয়ে ক্রমেই বাংলাদেশ ক্রিকেটে নিজের অবস্থান তৈরি হরে নেন তিনি।

টেস্টে এটা মুশফিকের পঞ্চম সেঞ্চুরি। যেখানে তার সর্বোচ্চ স্কোর ২০০। সবশেষ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ১৫৯ রানের চমৎকার একটি ইনিংস খেলেছেন তিনি। পঞ্চম শতকের পথে মুশফিক ছাড়িয়ে গেলেন অলরাউন্ডার সাবিক আল হাসানকে।

এতদিন চারটি করে শতকে দু’জন একই বৃন্তে ছিলেন। মুশফিকের ওপরে এখন কেবল সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুল (৬) ও জাতীয় দলের সহ অধিনায়ক তামিম ইকবাল (৮)।

এছাড়া এই ইনিংস দিয়েই গতকাল অবশ্য মুশফিক সাকিব, তামিম ও হাবিবুল বাশারের পর মাত্র চতুর্থ বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে টেস্টে তিন হাজারি ক্লাবের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন।

ভারতের হায়দরাবাদে টপঅর্ডার ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতার দিনে বাংলাদেশের ব্যাটিং কান্ডারি হিসেবে আবির্ভাব হয় মুশফিক। ভারতের পাহাড়সম রানের বিপরীতে ব্যাট হাতে দলকে একাই অনেক দূর টেনে আনেন তিনি।

হায়দরবাদের রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে গতকাল তৃতীয় দিনে ৮১ রানে অপরাজিত ছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মুশফিক। আজ চতুর্থ দিনে ব্যাটিংয়ে নেমেই গতকালের নির্ভরযোগ্য সঙ্গী মিরাজকে হারান তিনি।

দিনের শুরুতেই ভুবনেশ্বর কুমারের করা প্রথম ওভারের চতুর্থ বলেই মিরাজ বোল্ড হলে কিছুটা ধাক্কা খান মুশফিক। তারপরও দৃঢ়তার পরিচয় দিয়ে ক্রিজে আকড়ে থেকে সেঞ্চুরি তুলে নেন টাইগার অধিনায়ক।

উমেশ যাদবের করা ইনিংসের ১১৭ তম ওভারের প্রথম বলটিকে বাউন্ডারিতে পাঠিয়ে সেঞ্চুরি তুলে নেন মুশফিক। সেঞ্চুরি করতে ২৩৭ বল মোকাবেলা করে ১৩টি চার ও ১টি ছক্কা হাঁকান তিনি। টেস্টে ভারতের বিপক্ষে এটি মুশফিকের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি।

মুশফিকের পাঁচটি শতক এসেছে ভারত, নিউজিল্যান্ড, শ্রীলংকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। এর মধ্যে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশ অধিনায়কের এটি দ্বিতীয় শতক। ২০১০ সালে চট্টগ্রামে তিনি ধোনিদের বিপক্ষে ১১৪ বলে করেছিলেন ১০১ রানের দুর্দান্ত ইনিংস।

এর বাইরে গত মাসে নিউজিলান্ডের বিপক্ষে মুশফিক ১৫৮ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন। তার বাকি শতকগুলোর মধ্যে ২০১৪ সালে কিংসটাউনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১১৬ ও ২০১৩ সালে গলেতে শ্রীলংকার বিপক্ষে প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি (২০০)।

আর সাকিব আল হাসানের চারটি শতকের দুটিই এসেছে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। একটি গত মাসে নিউজিল্যান্ড সফরে গিয়ে ২১৭, অন্যটি ২০১০ সালে হ্যাশির্টনে ১০০ রান। বাকি দুটির একটি পাকিস্তানের বিপক্ষে ২০১১ সালে ঢাকায়, ১৪৪ রান। আর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সাকিব খুলনাতে করেন ১৩৭ রান।

Advertisements