চার মাসের মধ্যে মেহেদী হাসান মিরাজ দেখলেন দুই ‘ল্যান্ড’। একটি উপহার দিয়েছে স্বপ্নের মতো রঙিন সব মুহূর্ত, আরেকটি কঠিন বাস্তবতার ভিটেমাটি! অক্টোবরে দেশের মাঠে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে উইকেট পেলেন কত অনায়াসে। জানুয়ারিতে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে সেটিই হয়ে গেল সোনার হরিণ। ইংলিশদের সঙ্গে দুই টেস্টে পেলেন ১৯ উইকেট, কিউইদের বিপক্ষে সমান ম্যাচে উইকেট মাত্র ৪টি।

অভিষেক সিরিজেই সপ্তম-স্বর্গে ওঠা মিরাজ পরেরটিতেই কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি। অল্প সময়ে দুই অভিজ্ঞতা থেকে অনেক কিছুই শিখেছেন ১৯ বছর বয়সী এই অফ স্পিনার, ‘দেশের মাটিতে খেললে কন্ডিশন বা উইকেট সম্পর্কে একটা ধারণা থাকে। বাইরের কন্ডিশন অনেক কঠিন। সেখানে খেললে অবশ্য অনেক অভিজ্ঞতা হয়। এবার নিউজিল্যান্ডে যে জিনিসটা শিখেছি, কঠিন কন্ডিশনে অনেক ধৈর্য ধরতে হয়। ব্যাটসম্যানের ভুলের অপেক্ষায় থাকতে হয়। দেশের মাটিতে কখনো কখনো বাজে বোলিং করেও পার পাওয়া যায়। নিউজিল্যান্ডের মতো কঠিন কন্ডিশনে সেটা করলেই বাউন্ডারি!’
তবে নিউজিল্যান্ডের পেস-সহায়ক কন্ডিশনে যে কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে তাঁর জন্য, সেটির মানসিক প্রস্তুতি নিয়েই রেখেছিলেন মিরাজ, ‘মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে গিয়েছিলাম। জানতাম নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশন আমাদের মতো হবে না। তবু চেষ্টা করেছি নিজের শতভাগ দেওয়ার। অনেক ভুল ছিল। সেগুলো না করলে হয়তো আরও উইকেট পেতাম। ভুলগুলো ভবিষ্যতে না করার চেষ্টা করব।’
নিউজিল্যান্ডের রেশ না কাটতেই মিরাজের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে এসেছে ভারত সফর। যদিও বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের কন্ডিশনের অনেক মিল। ইংলিশদের বিপক্ষে যেভাবে খেলেছিলেন চেনা পরিবেশে সেটির পুনরাবৃত্তি হবে? ‘১৯-২০ উইকেট পেতে হবে, কখনোই এমন লক্ষ্য ঠিক করি না। চেষ্টা করি শুধু ভালো খেলতে। লক্ষ্য ঠিক করে সেটা পূরণ করতে না পারলে হতাশ হতে হয়। আমার কথা হচ্ছে, চেষ্টা করব। এর পর যা হয় হবে’—মিরাজের কথায় যেন পরিণতের ছাপ।
চোখের পলকে সাফল্য হাতে ধরা দেওয়া আবার একের পর চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হওয়া—দ্রুত সময়ে মুদ্রার দুটি দিক দেখে ফেলা মিরাজ বুঝে গেছেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট টিকে থাকতে হলে তাঁকে পাড়ি দিতে হবে দুর্গম গিরি কান্তার মরু। এই দুই ল্যান্ডের অভিজ্ঞতা তাঁর জন্য জরুরিই ছিল বোধ হয়।

Advertisements