অ্যাডিলেডে গত বৃহস্পতিবার হয়েছে অস্ট্রেলিয়া-পাকিস্তান সিরিজের শেষ ওয়ানডে। রানপ্রসবা সেই ম্যাচের দিন গ্যালারিতে ছিল দর্শকখরা! অথচ আগের দুদিন পার্থ ও ব্রিসবেনে বিগ ব্যাশের দুটি সেমিফাইনালে দেখা গেছে অন্য দৃশ্য। গ্যালারিতে যেন তিল রাখারও জায়গা নেই। কাল অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া এই টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের ফাইনালেও গ্যালারি ছিল টইটম্বুর।

দর্শক উপস্থিতিতে এবারের বিগ ব্যাশ গড়েছে রেকর্ড। পুরো টুর্নামেন্টে মাঠে বসেই খেলা দেখেছে ১০ লাখের বেশি দর্শক! এর সঙ্গে টিভি দর্শক তো ছিলই। তবে মাঠের দর্শকই ক্রিকেটের আসল অলংকার।
ক্রিকেটে যুগ বদলের হাওয়া লেগেছে আরও আগে থেকেই। মানুষের কাছে ক্রমশই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে চার-ছক্কার খেলা টি-টোয়েন্টি। ক্রিকেট খেলুড়ে প্রায় সব দেশই তাই পসরা সাজিয়েছে খেলাটির ক্ষুদ্রতম সংস্করণের। অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট বিগ ব্যাশ এবার দেখে ফেলেছে ষষ্ঠ মৌসুম। একেকটি মৌসুম গেছে টুর্নামেন্টটির জনপ্রিয়তা আরও বেড়েছে। ধীরে ধীরে উঠে গেছে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে। অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটামোদীদের জন্য বিগ ব্যাশ যেন পিকনিক!
পরিবারের সবাই মিলে আসেন খেলা দেখতে। স্কুলপড়ুয়া শিশুরা আসে চার-ছক্কার আমোদে ভাসতে। এবার তো বিগ ব্যাশের প্রতিটি ম্যাচেই গ্যালারি ছিল ভরা। ৩৫টি ম্যাচেই বিক্রি হয়েছে সব টিকিট। গড়ে প্রতি ম্যাচে দর্শক উপস্থিতি ছিল ৩০ হাজার ১১৪ জন। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার কর্তারা তো এতে বেজায় খুশি। বিগ ব্যাশের প্রধান অ্যান্থনি এভেরার্ডের বিবৃতিতেই এটা স্পষ্ট, ‘মৌসুমটি দারুণ ছিল। সত্যি এটা আমাদের প্রত্যাশাকেও ছাড়িয়ে গেছে।’
এক ম্যাচে সবচেয়ে বেশি দর্শক হয়েছে মেলবোর্ন ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মেলবোর্ন স্টারস ও মেলবোর্ন রেনেগেডসের ডার্বি ম্যাচে। ১ জানুয়ারির সেই ম্যাচে মাঠে বসে খেলা দেখেছে ৭১ হাজার ১৬২ জন দর্শক। বিশ্বজুড়ে টিভিতেও খেলা দেখেছে বড় অঙ্কের দর্শক। খেলাগুলো সম্প্রচার করা নেটওয়ার্ক টেনে চোখ রেখেছে প্রতি ম্যাচে গড়ে ১ লাখ ২১ হাজার ৭৫০ জন। পার্থের ওয়াকায় কাল এ মৌসুমের ফাইনালটি অবশ্য জমজমাট ছিল না। একপেশে ম্যাচে পার্থ স্করচার্স সিডনি সিক্সার্সকে ৯ উইকেটে হারিয়েছে। তবে গ্যালারিতে দর্শকের কমতি ছিল না মোটেই। পার্থের বোলিংয়ের সামনে সেভাবে দাঁড়াতেই পারেননি সিডনির ব্যাটসম্যানরা। ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৪১ রান তুলতে পারে তারা। ৪ ওভার ১ বল হাতে রেখে ১ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় পার্থ।
দ্বিতীয় মৌসুমে পড়া নারী বিগ ব্যাশও ভালোই দর্শক পেয়েছে। এবার নারী বিগ ব্যাশ দেখতে মাঠে গেছে ১ লাখেরও বেশি দর্শক। এক ম্যাচে সর্বোচ্চ ২৪ হাজার দর্শক হয়েছিল মেলবোর্ন ডার্বিতে। সূত্র: এএফপি।

Advertisements