বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলে তার যাত্রা শুরু হয়েছিল ওয়ানডে ফরম্যাট দিয়ে। অভিষেকের পর টানা বেশ কয়েকটি ম্যাচও খেলেন মুমিনুল হক। কিন্তু একটু একটু করে বদলে যেতে থাকে বাঁ-হাতি এই ব্যাটসম্যানের ফরম্যাট। তার গায়ের সাথে লেগে যায় টেস্ট ব্যাটসম্যানের ট্যাগ। যে ট্যাগ এখনও ঝেরে ফেলতে পারেননি মুমিনুল।

টেস্ট ফরম্যাটের নিয়মিত সদস্য হলেও ওয়ানডে বা টি-টোয়েন্টিতে উপেক্ষিতই থেকে যান মুমিনুল। বাংলাদেশের হয়ে সর্বশেষ ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ওয়ানডে খেলেন বাঁহাতি এই টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান। শেষ টি-টোয়েন্টি খেলেছেন এরও প্রায় এক বছর আগে। যদিও এসব ভাবায় না তাকে। মজে থাকেন টেস্ট ফরম্যাট নিয়েই।

নিউজিল্যান্ড সফরটা ভাল যায়নি মুমিনুলের। প্রথম টেস্টে খেলেই পাঁজড়ের হাড়ের ইনজুরিতে পড়েন। দ্বিতীয় টেস্ট না খেলেই অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম ও ইমরুল কায়েসের সাথে দেশে ফিরে আসতে হয় বাংলাদেশের হয়ে ২০ টেস্টে চার সেঞ্চুরিসহ ৫১.১৫ গড়ে ১৬৩৭ রান করা মুমিনুলকে। বুধবার মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে এসেছিলেন চিকিৎসক দেখাতে।

এ সময় সাংবাদিকরা ওয়ানডে ফরম্যাট নিয়ে কথা তুলতেই মুমিনুল বলেন, ‘না, এমন কোনো চিন্তা করিনি। ওটা হলেও পরবর্তীতে। সুযোগ পেলেও আমি জানি না পারব কি, পারব না। কিন্তু আমি চেষ্টা করব। ওটা নিয়ে এখন চিন্তা করি না। আপাতত টেস্ট নিয়ে চিন্তা করছি। টেস্টে আরও ভালভাবে খেলে ভাল কিছু করতে হবে। ওটা টিম ম্যানেজম্যান্টের ব্যাপার। আমার ব্যাপার নয়।’

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পুরো সিরিজে বাংলাদেশ দল ব্যর্থতার ঘানিই টেনেছে। তিন ফরম্যাট মিলিয়ে টানা আট ম্যাচ হেরেছে সফরকারিরা। তবে এর মধ্যেও ইতিবাচক দিক খুঁজে পাচ্ছেন মুমিনুল, ‘পুরো সিরিজে হয়তো ফল হয়নি। কিন্তু আমার কাছে মনে হয় অনেক ইতিবাচক দিক আছে। আমি আমার জীবনের অর্ধেকের বেশি সময় ধরে যেটা শিখেছি এবারের নিউজিল্যান্ড সিরিজে আমি তা শিখেছি। এই সিরিজ থেকে আমি অনেক কিছু শিখেছি। যা পরবর্তীতে আমার ক্যারিয়ারে অনেক বেশি কাজে দেবে।’

অস্ট্রেলিয়াতে ক্যাম্প করায় নিউজিল্যান্ডে মানিয়ে নিতে সুবিধাই হয়েছিল বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের। এ জন্য বিসিবি, টিম ম্যানেজম্যান্টসহ কোচকে ধন্যবাদ জানান মুমিনুল, ‘আমার মনে হয় বোর্ড, টিম ম্যানেজম্যান্ট, চান্দিকা হাতুরুসিংহেকে ধন্যবাদ দেয়া উচিত। সফর শুরুর অনেকদিন আগে গিয়েছি। পুরো একমাস সময় পেয়েছি। ওই জিনিসটা আমার খুব কাজে লেগেছে।’

Advertisements