দিনটি শুরু হয়েছিল লিড নেওয়ার আশা আর জয়ের স্বপ্ন নিয়ে। শেষ হলো হারের হতাশায়। কিউই লেজের ঝাপটায় সকালেই জোর ধাক্কা। একটি দিন বৃষ্টির পেটে যাওয়ায় তবু ড্রয়ের সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু বাংলাদেশ তো উপহার পেয়ে নয়, দিয়ে অভ্যস্ত। উদার হয়ে নিজেদের উইকেট বিলিয়ে এলেন ব্যাটসম্যানরা। একটু একটু করে খোঁড়া হল আশার কবর।

২২ ডিসেম্বর প্রস্তুতি ম্যাচে হার দিয়ে শুরু হয়েছিল যে সফর, সেটি শেষ হলো আন্তর্জাতিক ম্যাচও সবকটি হেরে। চার দিনেই ক্রাইস্টচার্চ টেস্ট ৯ উইকেটে জিতে নিল নিউ জিল্যান্ড। আগের দিন খেলা হয়নি, কিউরা জিতল আসলে তিন দিনেই। ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজের পর টেস্টেও হোয়াইটওয়াশড বাংলাদেশ।

চতুর্থ দিন বিকেলে অবশ্য খানিকটা উত্তেজনা ছড়াল টেস্টে। টেস্টের ফল নিয়ে অবশ্যই নয়, দৈর্ঘ্য নিয়ে। ম্যাচ পঞ্চম দিনে যাবে কিনা! কলিন ডি গ্র্যান্ডহোমকে তিনে নামিয়ে সেই লড়াইয়েও জিতেছে নিউ জিল্যান্ড।

৩ উইকেট হাতে নিয়ে ২৯ রানে পিছিয়ে থেকে শুরু হয়েছিল নিউ জিল্যান্ডের দিন। শেষ তিন জুটিতেই তারা তুলে নেয় ৯৮ রান, পায় ৬৫ রানের লিড। বড় লিড গোণার চেয়েও অস্বস্তিকর ছিল বাংলাদেশের শরীরী ভাষা। শঙ্কার ঘণ্টা বেজেছে ওখানেই। ব্যাটসম্যানরা একে একে এসে শুধু নাড়িয়ে গেছেন ঘণ্টা।

শুরু তামিম ইকবালকে দিয়ে। অধিনায়কের দায়িত্বও বের করে আনতে পারেনি বাঁহাতি ওপেনারের সেরাটা। সীমানায় ফিল্ডার রেখে শর্ট বলা করা হচ্ছিলো। উদ্দেশ্য না বোঝার কারণ নেই তামিমের। কিন্তু ক্যারিয়ারে আরও অনেকবারের মত পা দিয়েছেন ফাঁদে। পুল করে ক্যাচ।

অনেক বিদেশ সফরের বছরে বাংলাদেশের সেরা ব্যাটসম্যানের শুরুটা হলো বাজে। সফরের ১১ ইনিংসে অর্ধশতক মাত্র দুটি, সর্বোচ্চ ৫৯!

দ্বিতীয় ইনিংসে সৌম্য ও মাহমুদউল্লাহর জুটিতে তবু ছিল লড়াইয়ের ইঙ্গিত। বাইরের বল তাড়া করে সৌম্য বিদায় দিয়েই পতনের শুরু। অনেক বাইরের বল তাড়া করে ৪ রানে জীবন পেলেন সাকিব আল হাসান। খানিকপর আউট হলেন সেটিরই পুনরাবৃত্তি করে!

মাহমুদউল্লাহর কাছে একটা বড় ইনিংস পাওনা ছিল। কিন্তু টেস্ট ক্যারিয়ারটা তার এগিয়ে চলছে যেভাবে, এই ইনিংসও সেটির প্রতিচ্ছবি। বড় কিছুর সম্ভাবনা জাগিয়ে অল্পতে শেষ।

চা বিরতির আগে পরে টানা দুবলে নেই সাব্বির ও নুরুল। দুজনের কেউ সামলাতে পারেননি নিল ওয়াগনারের শর্ট বল। আর মিরাজের কাছে তো এখন ব্যাটিং মানে দুঃস্বপ্ন।

শেষের আগে তবু শেষ করতে চাইলেন না তাসকিন আহমেদ ও কামরুল ইসলাম রাব্বি। টেস্ট সিরিজ থেকে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি সম্ভবত এই দুজনই। বোলিংয়ে আলো ছড়িয়েছেন, শেষ বেলায় ব্যাটিংয়েও দেখালেন ঝলক। ছিল নিবেদন, লড়াইয়ের মানসিকতা। এলোমেলো শট খেলেছেন কিছু, লোয়ার অর্ডারদের কাছে সেটি প্রত্যাশিতই। পাশাপাশি খেলেছেন দারুণ কিছু শটও। নবম উইকেটে দুজনের ৫১ রানের জুটিতে একটু বেড়েছে ম্যাচের দৈর্ঘ্য।

তাতেও অবশ্য ম্যাচ শেষ দিনে নেওয়া যায়নি। সন্ধ্যা সাতটায়ও চকচকে রোদ। বাড়তি আধঘণ্টা সময়ের সুযোগ কেন নেবে না নিউ জিল্যান্ড! ডি গ্র্যান্ডহোমের ব্যাট থেকে এলো চারটি ছক্কা। টম ল্যাথাম তো জীবনের সেরা ফর্মে।

ক্যাচ হাতছাড়া সফরে শেষ বেলায়ও ক্যাচ ছাড়লেন সাকিব। টানা দুই ছক্কায় সিরিজ শেষ করলেন ডি গ্র্যান্ডহোম। ঝলমলে রোদেও কী ভীষণ বিবর্ণ বাংলাদেশ!

অধিনায়কসহ নিয়মিত তিন ব্যাটসম্যানকে হারানোর পর এই হারকে ‘বেনিফিট অব ডাউট’ দেওয়াই যায়। তবে হারের একই ধারা, ব্যাটসম্যানদের আত্মঘাতী শটগুলো বারবার জানান দেবে, টেস্টের বাংলাদেশ সেই একইরকম!

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ২৮৯

নিউ জিল্যান্ড ১ম ইনিংস: ৯২.৪ ওভারে ৩৫৪

বাংলাদেশ ২য় ইনিংস: ৫২.৫ ওভারে ১৭৩ (তামিম ৮, সৌম্য ৩৬, মাহমুদউল্লাহ ৩৮, সাকিব ৮, শান্ত ১২, সাব্বির ০, নুরুল ০, মিরাজ ৪, তাসকিন ৩৩, রাব্বি ২৫*, রুবেল ৭; বোল্ট ৩/৫২, সাউদি ৩/৪৮, ডি গ্র্যান্ডহোম ১/২৭, ওয়াগনার ৩/৪৪)।

নিউ জিল্যান্ড ২য় ইনিংস: ১৮.৪ ওভারে ১১১/১ (লক্ষ্য ১০৯) (রাভাল ৩৩, ল্যাথাম ৪১*, ডি গ্র্যান্ডহোম ৩৩*; তাসকিন ০/২১, মিরাজ ০/২৭, কামরুল ১/২১, সাকিব ০/২৮, শান্ত ০/১৩)

ফল: নিউ জিল্যান্ড ৯ উইকেটে জয়ী

সিরিজ: নিউ জিল্যান্ড ২-০তে জয়ী

ম্যান অব দা ম্যাচ: টিম সাউদি

Advertisements