কত দিন এমন এক টেস্টের সকালের অপেক্ষায় ছিল বাংলাদেশ? পেসাররা দৌড়ে আসছেন, গতির ঝড় তুলছেন। বাউন্সার আর মুভমেন্ট দিয়ে কাঁপিয়ে দিচ্ছেন প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানদের। মাত্র ২ উইকেট পেলেও দুই ঘণ্টায় পেস বোলিংয়ের যে প্রদর্শনী মেলে ধরলেন তাসকিন, রুবেল ও কামরুল, তাতে অনেক দিন মনে থাকবে এ সেশন। মধ্যাহ্নবিরতিতে যাওয়ার আগে ২ উইকেটে নিউজিল্যান্ড করেছে ৭০ রান। বাংলাদেশ এখনো এগিয়ে ২১৯ রানে।

ওয়েলিংটন টেস্টে নিজের চতুর্থ বলেই ক্যারিয়ারে প্রথম উইকেটটি পেতে পারতেন তাসকিন আহমেদ। কিন্তু জিত রাভালের সে ক্যাচ স্লিপে ফেলে দেন সাব্বির রহমান। আজ প্রথম নয়, ক্যাচ উঠল তাসকিনের ষষ্ঠ ওভারে। ব্যাটসম্যান রাভাল, বোলার তাসকিন। ক্যাচটিও গেল সেই সাব্বিরের কাছে। সবকিছুই যখন মিলল, শেষ অংশেই বা কীভাবে অমিল থাকে? আবারও বল ফসকাল সাব্বিরের, জীবন ফিরে পেলেন রাভাল।
জীবন এর আগেই একবার পেয়েছেন রাভাল। মেহেদী হাসান মিরাজের বলে দ্বিতীয় স্লিপে তাঁর দেওয়া সে কঠিন ক্যাচটি ধরতে পারেননি মাহমুদউল্লাহ। এ ছাড়া একটা এলবিডব্লুর সুযোগ সৃষ্টি করেছিলেন মিরাজ। কিন্তু আম্পায়ার সাড়া দেননি, ফিল্ডারদের যোগ্য সমর্থনও পাননি আবেদনে। পরে রিপ্লে তে দেখে গেছে, রিভিউ নিলে আউট হয়ে যেতেন ব্যাটসম্যান! দুই বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের বিপক্ষে দারুণ বল করেছেন এই অফ স্পিনার। তবু প্রশ্ন উঠলই, টকটকে ‘লাল চেরি’টা কেন একজন স্পিনারের হাতে তুলে দিলেন অধিনায়ক!
প্রথম ওভারেই পেস ও বাউন্স দিয়ে তাসকিন দেখিয়ে দিয়েছেন এ উইকেটে এমন দিন পেসারদের জন্য। নিউজিল্যান্ডে পিচের আচরণ মেনে দ্বিতীয় দিনে প্রাণ ফিরে পেয়েছে ক্রাইস্টচার্চ। পরের ওভারগুলোতেও মাঝেমধ্যে দু–একটি বাজে বল করলেও তাসকিনের বোলিং ছিল উপভোগ্য। তবু রুবেল হোসেনকে ডেকে আনতে আনতে দ্বাদশ ওভার। রুবেল আক্রমণে আসতে আসতে অন্য প্রান্তে ক্লান্ত হয়ে পরলেন তাসকিন। ৭ ওভারের স্পেল শেষ হতে ডাক পড়ল কামরুল ইসলামের।
ভাগ্য যেভাবে অসহযোগিতা করেছিল তাসকিনের সঙ্গে সেটাই যেন পুষিয়ে নিলেন কামরুল। দ্বিতীয় বলেই বোল্ড করলেন রাভালকে। বলা উচিত বোল্ড হলেন, কারণ অফ স্টাম্পের অনেক বাইরের বলটা ওভাবে পুল করার চেষ্টা না করলে আউট হন না কিউই ওপেনারের। চতুর্থ বলেই আবারও আঘাত কামরুলের। এবার আর ভাগ্যের সাহায্য প্রয়োজন হয়নি বাংলাদেশি পেসারের। দুর্দান্ত এক আউট সুইঙ্গার, সে বল না খেলে উপায় ছিল না কেন উইলিয়ামসনের। অফ স্টাম্পের একটু বাইরে পিচ করে আরেকটু সরে এল বলটি। কিউই অধিনায়ক তাকিয়ে দেখলেন কীভাবে তাঁর ব্যাটের কানা ছুঁয়ে গেল বল। বাকি কাজটা সারলেন নুরুল হাসান, ডানদিকে ঝাঁপিয়ে পরে টেস্টে নিজের প্রথম ডিসমিসাল আদায় করে নিলেন এই উইকেটকিপার।
এরপরই বাংলাদেশি পেসারদের সেরা মুহূর্তটা এল। গতি, সুইং, বাউন্স—কী ছিল না রুবেল ও কামরুলের এই স্পেলে! কামরুল তাঁর স্লিঙ্গিং অ্যাকশনকে ব্যবহার করে আদায় করলেন সিম মুভমেন্ট। আর নিয়মিত ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার গতির আশপাশে বল করলেন রুবেল। তাঁর এক বাউন্সার তো আঘাত হানল টম ল্যাথামের হেলমেটে। তবে এবার অন্তত হাসপাতাল থেকে ঘুরে আসতে হয়নি ব্যাটসম্যানকে।
তবে এসব সামলেই ১০ ওভারের বেশি পার করে দিয়েছে রস টেলর ও ল্যাথামের তৃতীয় উইকেট জুটি। ২৩ রান যোগ করেই বিরতিতে গেছেন এ দুজন।

Advertisements