ওয়েলিংটনের চেয়ে ক্রাইস্টচার্চের উইকেট তাসকিনের কাছে অনেক বেশি প্রাণবন্ত মনে হয়েছে। এই টেস্টে বোলিংটাও তাই উপভোগ করছেন বাংলাদেশের তরুণ ফাস্ট বোলার। ২৬০ রানে নিউজিল্যান্ডের ৭ উইকেট পড়ে যাওয়ায় বড় কিছুর স্বপ্নই দেখছেন তিনি, ‘আগামীকাল যদি দ্রুত নিউজিল্যান্ডের বাকি ৩ উইকেট ফেলে দিতে পারি আর ব্যাটসম্যানরা ভালো করে, এই টেস্টে জেতার সামর্থ্য রাখি আমরা।’
ক্রাইস্টচার্চ টেস্টে দল এ পর্যন্ত ভালোই করেছে, তবে এতে এখনো আহ্লাদিত হওয়ার মতো কিছু দেখছেন না তাসকিন, ‘আমরা একটা ভালো অবস্থানে আছি অবশ্যই। কিন্তু খুব বেশি খুশি হওয়ার আসলে কিছু নেই। খেলার এখনো তিন দিন বাকি।’
বাংলাদেশের হাত থেকে ম্যাচটি প্রায় বেরই করে নিয়ে গিয়েছিল দুটি জুটি—টম ল্যাথাম-রস টেলর ও মিচেল স্যান্টনার-ম্যাট নিকোলস। ল্যাথাম ও টেলরকে যদিও ফেরানো গেল, তারপর দাঁড়িয়ে গেলেন স্যান্টনার আর নিকোলস। মনে হচ্ছিল ওঁরা দুজনই রিড এনে দেবেন নিউজিল্যান্ডকে। কিন্তু সাকিব মাত্র ৯ বলের ব্যবধানে স্যান্টনার, ওয়াটলিং ও গ্র্যান্ডহোমের উইকেট ৩টি তুলে নিয়ে দারুণভাবে ম্যাচে ফিরিয়েছেন বাংলাদেশকে। তারপরও বাংলাদেশকে ঠিক চালকের আসনে দেখছেন না তাসকিন। তাঁর মনে হচ্ছে, এই ম্যাচ জিততে ব্যাটসম্যানদেরই বড় দায়িত্ব নিতে হবে কাঁধে, ‘রোববার সকালে বেশ দ্রুতই আমাদের ৩ উইকেট তুলে নিতে হবে। এরপর দায়িত্ব ব্যাটসম্যানদের। দ্বিতীয় ইনিংসে যদি ব্যাটসম্যানরা বড় রান তুলতে পারে, তাহলে এই টেস্টে আমরাই জিতব।’
ক্রাইস্টচার্চ টেস্ট জিততে পারলে সেটি হবে বিশাল এক অর্জন। তবে তাসকিন মনে করেন, অভিজ্ঞতার ঘাটতি থাকলেও জয়ের সামর্থ্য দলের আছে, ‘আমরা দেশের মাটিতে সর্বশেষ টেস্টে ইংল্যান্ডকে হারিয়েছি। ভালো পারফর্ম করে আমরা এই টেস্টটাও জিততে পারি। সেই সামর্থ্য আমাদের আছে।’
নিজের বলে সুযোগ এসেছিল। ক্যাচও পড়েছে। ভালো বোলিং করলেও মাত্র একটি উইকেটে কি সন্তুষ্ট তাসকিন? সন্তুষ্ট হতে পারেননি, তবে আফসোস তো একটু ভেতরে ভেতরে থেকেই যায়। কিন্তু এটা নিয়ে পড়ে না থেকে ডানহাতি ফাস্ট বোলার তাকাচ্ছেন সামনে, ‘সুযোগ এসেছিল। সুযোগগুলো কাজে লাগেনি। এটি নিয়ে ভাবি না। এটি ক্রিকেটেরই অংশ। উইকেট হয়তো একটা পেয়েছি আজ। কিন্তু দিন যেদিন আসবে, হয়তো ছয়-সাত-আটটা উইকেট পেয়ে যাব। আসল বিষয় হলো ভালো জায়গায় বল করা।’

Advertisements