রঙিন স্বপ্নের করুণ মুত্যু

প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের ৫৯৫ রানের পরে দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ১৬০ রানেই সব শেষ এবং সাত উইকেটে হার। এমন পরিণতি কেউ ভেবেছে কিনা সন্দেহ! যদি বাংলাদেশকে আত্মপক্ষ সমর্থণের সুযোগ দেওয়া হয় তাহলে হয়তো বলা হবে কন্ডিশন ও মুশফিক-ইমরুলের ইনজুরি। কিন্তু প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসের পরে জয়ের স্বপ্ন দেখতেই পারতো বাংলাদেশ। সেখান থেকে হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে মুশফিক বাহিনীকে। এর কোনো ব্যাখ্যা কেউ আসলেই দিতে পারবে কি না সে প্রশ্ন থেকেই যায়।

বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের মালিক এখন সাকিব আল হাসান। ছবিঃ সংগৃহীত

দ্বিতীয় ইনিংসে নিউজিল্যান্ডের সামনে মাত্র ২১৭ রানের লক্ষ্য দিতে পেরেছে বাংলাদেশ। সে লক্ষ্যে পৌঁছাতে খুব একটা কষ্ট করতে হয়নি কেন উইলিয়ামসনদের। উদ্বোধনী জুটিতে টম ল্যাথাম ও জিত রাভাল মিলে করেছেন ৩২ রান। প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরি করা ল্যাথাম দ্বিতীয় ইনিংসে করেছেন ১৬ রান। মেহেদি হাসান মিরাজের এই টেস্টের প্রথম উইকেটের শিকার হয়েছেন ল্যাথাম। মেহেদির হাতেই ফেরেন রাভালও।

মাত্র ৩৯ রানেই দুই উইকেট হারিয়ে ফেললেও অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন ও চোখের ইনজুরি থেকে ফেরা নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান রস টেলর মিলে দলকে নিয়ে যান জয়ের অনেকটা কাছে। তৃতীয় উকেটে এই টেস্টে অভিষেক হওয়া শুভাশিস রায়ের বলে মিরাজের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে টেলর করেন ৬০ রান। তবে অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন নিজের ১৫ তম টেস্ট সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন।

প্রথম ইনিংসে ১৭৭ রান করা ল্যাথাম পেয়েছেন ম্যাচ সেরার পুরষ্কার। ছবিঃ এএফপি

বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুতেই হ্যামস্টিংয়ের ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে যান প্রথম ইনিংসে উইকেটের পিছনে দাঁড়ানো ইমরুল কায়েস। ওদিকে প্রথম ইনিংসেই ডান হাতের আঙ্গুলে ব্যথা পাওয়ায় উইকেটরক্ষকের দায়িত্ব পালন না করলেও ব্যাট করতে নেমেছিলেন মুশফিক। কিন্তু টিম সাউদির বলে ঘাড়ে আঘাত পেয়ে তাকেও যেতে হয় হাসপাতালে, তবে আঘাত গুরুতর না বলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে বাংলাদেশের হয়ে সাব্বির রহমান রুম্মনের ব্যাটিংটাও চোখে পড়ার মতোই।

দুই ইনিংসেই হাফ সেঞ্চুরি করা এই ব্যাটসম্যান শেষমেস মুশফিক ও ইমরুলের অনুপস্থিতিতে উইকেটরক্ষকের কাজও করেছেন দায়িত্বের সাথে।

প্রথম ইনিংসে সাকিব আল হাসানের ডাবল সেঞ্চুরি (২১৭) ও অধিনায়ক মুশফিকের করা ১৫৯ রানের উপরে ভর করে বাংলাদেশ করেছিল ৫৯৫ রান। দুই হাতের আঙুলে ব্যথা নিয়েও দাঁতে দাঁত চেপে খেলে গেছেন হ্যামস্ট্রিংয়ের ইনজুরি থেকে ফেরা মুশফিক। তিনি আউট হওয়ার আগে সাকিবের সাথে মিলে করে গেছেন ৩৫৯ রানের বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ পার্টনারশীপ।

বাংলাদেশের হয়ে সব থেকে বেশি উইকেট পেয়েছেন কামরুল ইসলাম রাব্বি ও শুভাশিস। তারা দুজনেই তিনটি করে উইকেট পেয়েছেন। সাকিব আল হাসান, মেহেদি হাসান মিরাজ ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ পেয়েছেন দুটি করে উইকেট। এছাড়া তাসকিন আহমেদ পেয়েছেন একটি উইকেট। নিউজিল্যান্ডের হয়ে উইকেটে এগিয়ে আছেন ছয় উইকেট নিয়ে নেল ওয়াগনার। এছাড়া ট্রেন্ট বোল্ড পেয়েছেন পাঁচটি উইকেট।

নিউজিল্যান্ডের ওপেনার টম ল্যাথাম পেয়েছেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার।

২০ জানুয়ারি একই মাঠে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট খেলে নিউজিল্যান্ড সফর শেষ করবে বাংলাদেশ দল।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

খেলার সর্বশেষ নিউজ পেতে সঙ্গে থাকেন……….

%d bloggers like this: