নিজের রেকর্ডে ভাগ বসল বলে কোথায় আফসোস হবে সেখানে উচ্ছ্বাসের শেষ নেই মুশফিকুর রহিমের। নেতা বলে কথা! নাকি সতীর্থ্যের সাফল্যে এভাবেই বুক ফুলে যায় বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের? নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে ওয়েলিংটনে ডাবল সেঞ্চুরি করা সাকিব আল হাসান একটি করে রান নিচ্ছিলেন আর তৃপ্তির ঢেকুর তুলছিলেন টেস্ট অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম।

যেটা বোঝা গেছে সাকিবের সেঞ্চুরি পূরণের সময়। নেইল ওয়াগনারের করা ফুল লেন্থের ডেলিভারি ফ্লিক করে সাকিব তখনও বলের দিকে তাকিয়ে। কিন্তু ততক্ষণে সাকিবের সেঞ্চুরি উদযাপন শুরু করে দেন মুশফিকুর রহিম। সাকিব যখন রান নিতে দৌড়াচ্ছিলেন, মুশফিক তখন ব্যাট উঁচিয়ে সাকিবকে আলিঙ্গন করায় ব্যস্ত।

কেউ ম্যাচ না দেখে শুধু ওই দৃশ্য দেখলে নিশ্চিতভাবেই ধরে নিতেন সেঞ্চুরিটা মুশফিকেরই হয়েছে। ব্যতিক্রম হয়নি সাকিবের ডাবল সেঞ্চুরি পূর্ণ করার সময়ও। কলিন ডি গ্রান্ডহোমের শর্ট লেন্থের ডেলিভারি স্কয়ার কাট করে চারে পরিণত করেন সাকিব। এবারও সাকিবের আগেই উল্লাসে মেতে ওঠেন অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম।

বাংলাদেশের হয়ে প্রথম ডাবল সেঞ্চুরিটি এসেছিল মুশফিকের ব্যাট থেকেই। ২০১৩ সালে গলে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২০০ রানের সেই ঐতিহাসিক ইনিংস খেলেছিলেন মুশফিক। এরপর ২০১৫ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে ২০৬ রান করে মুশফিককে ছাড়িয়ে যান ওপেনার তামিম ইকবাল। ওয়েলিংটনে দুজনকেই ছাড়িয়ে গেলেন ২১৭ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলা সাকিব।

ডাবল সেঞ্চুরির তৃপ্তিটা আগে থেকেই জানা ছিল মুশফিকের। যে কারণেই সাকিবের অনুভূতি বুঝতে সমস্যা হয়নি তার। তাই সাকিবের ডাবল সেঞ্চুরির উদযাপনও সেভাবেই করেছেন মুশফিক। বড় কিছুর প্রাপ্তিতে সতীর্থদের কাছ থেকে তো এমন সাড়াই প্রত্যাশা করে খেলোয়াড়রা! নিশ্চিত করেই বলা যায়, মুশফিক উইকেটে থাকায় ভালো সাড়া পাওয়ার সেই অভাব টের পাননি সাকিব।

সাকিবের ডাবল সেঞ্চুরি করার দিনে দারুণ এক ইনিংস খেলেছেন মুশফিকও। প্রায় আড়াই বছর পর টেস্টে সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক। ২৬০ বলে ২৩ চার ও এক ছয়ে ১৫৯ রান করে থামেন মুশফিক। এ রান করার পথে পুরোটা সময় সাকিবকে কাছে পেয়েছেন মুশফিক। তাতে হয়েছে রেকর্ডও।

পঞ্চম উইকেটে সাকিব-মুশফিকের করা ৩৫৯ রান যে কোনো উইকেটে বাংলাদেশের সেরা জুটি। রানের হিসাবে এ দিন তারা ছাড়িয়ে গেছেন তামিম ইকবাল-ইমরুল কায়েসের করা ৩১২ রানের জুটির রেকর্ডও। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পঞ্চম উইকেটে পাকিস্তানের আসিফ ইকবাল ও জাভেদ মিয়াঁদাদের করা ২৮১ রানের ৪১ বছরের রেকর্ডও ভেঙে দিয়েছেন সাকিব-মুশফিক।

Advertisements