নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে খেলেননি মুস্তাফিজুর রহমান। এরপর শোনা যায়, নিজে থেকেই নাকি বিশ্রামে গিয়েছেন বাঁ-হাতি এই তরুণ সেনসেশন। এমনকি দেশেও ফিরে আসতে চান কাটার মাস্টার। এ ছাড়া দলের একটা অংশও নাকি চাচ্ছিল না একাদশে থাকুক মুস্তাফিজ।

তবে ব্যাপারটি যে তেমন নয় সেটা পরিষ্কার করলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। কোমড়ে ব্যথা থাকার কারণেই শেষ টি-টোয়েন্টিতে মুস্তাফিজ দলে ছিলেন না বলে জানিয়েছেন বিসিবি সভাপতি। একই কারণে তাকে টেস্টে বিবেচনা করা হয়নি।

এ প্রসঙ্গে পাপন বলেন, ‘মুস্তাফিজের শেষ টি-টয়েন্টি খেলার কথা ছিল। যখন জানলাম ও খেলবে না, তখন ওকে ফোন করে জানতে চাইলাম কী সমস্যা। তখন ও আমাকে বলল ওর ব্যথা লাগছে। তাই আমি চিন্তিত হয়ে পড়ি। তখন আমি মাশরাফি, সাকিব, মুশফিক, কোচ, ফিজিও ও প্রধান নির্বাচককে সঙ্গে কথা বললাম। সবাইর সঙ্গে আলোচনা করেই মুস্তাফিজকে নিয়ে বের করো ওর সমস্যা আসলে কোথায়?’

মুস্তাফিজ এমনিতেই কথা একটু কম বলেন। তাই তার সঙ্গে কথা বলতে জাতীয় দলের ফিজিও বায়োজিদ ইসলাম খানের সাহায্য নেন বিসিবি সভাপতি। তিনি বলেন, ‘ও আবার একটু কথা কম বলে। তবে আমি জানি ও বায়েজিদের সঙ্গে ভালো কথা বলে। তাই বায়েজিদকে আমার বাসায় ডেকে এনে আমার ফোনে ওর সঙ্গে প্রায় ২০ মিনিট কথা বলিয়েছি। কথা শেষে বায়েজিদ আমাকে যেটা বলেছে, ওর একটা সমস্যা আছে। তবে এটা যেখানে অপারেশন হয়েছে সেখানে না কোমরে ব্যথা হচ্ছে এবং ব্যথাটা এখনও আছে। পরে আমি বায়েজিদকে বলি তুমি যা বুঝেছ ফিজিওর সঙ্গে কথা বলে ব্যখ্যা দাও। আমি ওখানে ইনফর্ম করে বলেছি যেহেতু ব্যথা আছে খেলানোর প্রশ্নই ওঠে না।’

একাদশে মুস্তাফিজকে দলের একটা অংশ না চাওয়ার প্রসঙ্গে বিসিবি সভাপতি বলেন, ‘প্রশ্ন এসেছিল মুস্তাফিজকে অনেকেই চায় না। মুস্তাফিজ ইন ফ্যাক্ট বাংলাদেশে চলে আসতে চাচ্ছিল। তখন এই কথাটা এসেছিল। আমি বলেছি এই ধরণের কোনো তথ্য মুস্তাফিজ আমাকে দেয়নি। অথবা কোনো খেলোয়াড় বা টিম ম্যানেজম্যান্টও বলেনি। বাট আপনারা যেমন জিজ্ঞাস করছেন এমন অনেকেই জিজ্ঞাস করেছে। আমি যেটা বলেছি আমার ধারণা এটাও একটা গুজব। অফিসিয়ালি আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না।

তবে ঘটনার সত্যতা যাচাই ও ঘটনা অনুযায়ী অ্যাকশন নেওয়ার কথাও জানালেন পাপন, ‘ওখান থেকেও এসেছিল প্রশ্নটা আবার অন্য জায়গা থেকেও আমাকে একজন বলেছে। কিন্তু একজন একটা কথা বললেই তো রেসপন্ড করা সম্ভব না। আগে আমাকে জানতে হবে কী হয়েছে, মুস্তাফিজের সঙ্গে কথা বলতে হবে। টিম ম্যানেজম্যান্টের সঙ্গে কথা বলতে হবে, টিম খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথা বলতে হবে। এটার সত্যতা যাচাই করতে হবে এবং এর মধ্যে যদি সত্যতা দেখা যায় তাহলে অবশ্যই এই অনুয়ায়ী অ্যাকশন নিতে হবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত ওই রকম কিছুই আমার কাছে আসে নাই।’

Advertisements