ব্যাটে-বলে দুরন্ত এক সাকিব আল হাসানকে দেখেই অভ্যস্ত সবাই। কখনো জ্বলে উঠতেন ব্যাট হাতে, কখনো বল। এক বিভাগে ভালো করতে না পারলে পুষিয়ে দিতেন অন্য বিভাগে। এভাবেই বাংলাদেশকে অনেক ম্যাচ জিতিয়েছেন। কিন্তু সেই সাকিবকে আগের মতো পাওয়া যাচ্ছে না। কোথায় হারালেন সেই সাকিব?

এই প্রশ্নটা এখন বড় হয়ে উঠেছে। যদিও নিউজিল্যান্ডে ওয়ানডে সিরিজে পুরো বাংলাদেশ দলই বিবর্ণ। ৩-০ ব্যবধানে হার। তাই এখন চলছে ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্সের কাটাছেঁড়া। সেখানে সাকিবের নামের পাশে তিন ম্যাচে এক ফিফটি, পাঁচ উইকেট। কিন্তু সাকিবের কাছে সবার প্রত্যাশা তো অনেক বেশি। কারণ, দারুণ সব পারফরম্যান্স এর আগে তিনি উপহার দিয়েছেন। ২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে গ্রেনাডা টেস্ট আর ২০১৪ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খুলনা টেস্টের ভোলা যায় না। ওয়ানডেতেও এমন উদাহরণ আছে অনেক। কিন্তু ২০১৪ সালের নভেম্বরের জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্টে সর্বশেষ ম্যাচসেরা হয়েছিলেন সাকিব, এরপর গত দুই বছরের মধ্যে ওয়ানডেতে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছেন মাত্র একবার। সেটি ঢাকায় গত সেপ্টেম্বরে আফগানিস্তানের বিপক্ষে।

এই নিউজিল্যান্ড সফরে প্রথম ওয়ানডেতে ৫৯ রান করেছেন। খারাপ নয়, তবে তাঁর আউট হওয়ার ধরনটা অনেকে মানতে পারেননি। লোকি ফার্গুসনের একটি শর্ট বলে গা ছাড়াভাবে পুল করতে গিয়ে টিম সাউদির হাতে ক্যাচ তুলে দিয়েছেন। আর সর্বশেষ ওয়ানডেতে ১৮ রান করেছেন। ৫৫ রান দিয়ে সাকিবের মতো বোলার কিনা উইকেটশূন্য! যেটি তাঁর ক্যারিয়ারের পাঁচটি বাজে বোলিংয়ের একটি।

সাকিবের পারফরম্যান্স নিয়ে সমর্থকদের আক্ষেপ তাই অনেক। তিনি নিজে সন্তুষ্ট? আজ নেপিয়ারে অনুশীলনের ফাঁকে তাঁকে প্রশ্নটা করা হয়েছিল। সাকিব উত্তর দিয়েছেন একটু অন্যভাবে। ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে এসে নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে খুব বেশি ভাবার জায়গা আর দেখছেন না, ‘একটা সময় ছিল যখন নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে খুব ভাবতাম। সেই সময় আমার ছিল। কিন্তু এখন ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স আমার কাছে খুব বড় কিছু নয়। দলের জন্য ভূমিকা রাখতে চেষ্টা করি। রাখতে পারলে খুব ভালো লাগে। ব্যর্থ হলে হতাশা তো কাজ করেই।’

Advertisements