এভাবে ‘আত্মহত্যা’!

স্বপ্নের অপমৃত্যু বোধ হয় এটিকেই বলে! ২৫২ রানের লক্ষ্যে ২২.৫ ওভারে ১ উইকেটে ১০৫! দুর্দান্ত খেলছেন সাব্বির রহমান আর ইমরুল কায়েস। নিজেদের মধ্যে গড়ে তুলেছেন ৭৫ রানের জুটি। নেলসনের স্যাক্সটন ওভালে তখন বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনাই সুবাস ছড়িয়ে যাচ্ছে। কিন্তু হঠাৎ যেন কী হয়ে গেল। একটা রান আউট, তার পর মৃত্যুর মিছিল!

যে রান আউট থেকেই শুরু আত্মহনন। স্বপ্নটাকে মৃত্যুপথযাত্রী বানিয়ে ফেলা। এর ‘আত্মহত্যা’র মিছিলটা কেবল দীর্ঘই হলো। ৭৯ রানে শেষ ৯ উইকেট হারিয়ে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বাংলাদেশ অলআউট হলো ১৮৪তে। ৬৭ রানে হেরে সিরিজে ফেরার স্বপ্নটাও মরে গেল নেলসনে।

দলের ৩০ রানের মাথায় টিম সাউদির বল তেড়ে-ফুঁড়ে মারতে গিয়ে শর্ট কাভারে ক্যাচ দিয়ে প্রথমেই ফিরেছিলেন তামিম ইকবাল। তবে জয় থেকে ১৪৭ রান দূরে দাঁড়িয়ে সাব্বিরের ওই রান আউট নিশ্চিতভাবেই ম্যাচের গতিপথ পাল্টে দিয়েছে।

এরপর সাকিব আল হাসান, ইমরুল কায়েস কিংবা মোসাদ্দেক হোসেনরা যা করলেন, সেটিকেও ‘আত্মহত্যা’ বললে হয়তো খুব বাড়িয়ে বলা হয় না। সাব্বিরের ফেরার পর লোকি ফার্গুসনের অসুরীয় গতির বলটা মাহমুদউল্লাহর স্টাম্প ছত্রখান হওয়ার পর সাকিব আর মোসাদ্দেক ফিরলেন ‘অনিয়মিত’ বোলার কিউই অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনের নিরীহ-দর্শন দুটি বলে।

সাকিবের কথাই ধরুন। উইলিয়ামসনের অফ স্টাম্পের বাইরের শর্ট বলটি তিনি বাউন্ডারির বাইরে পাঠানোর প্রায় সব সময়ই পেয়েছিলেন। কিন্তু সেটি শেষ পর্যন্ত কাট করে তুলে দিলেন পয়েন্টে শর্ট থার্ড ম্যানে দাঁড়ানো নিল ব্রুমের হাতে। দলের বিপর্যয়ের মুখে আগের ম্যাচেই দুর্দান্ত খেলা মোসাদ্দেককেই বা কেন অমন তুলে মারতে হবে। বলের লাইনে না গিয়ে মিড অফের ওপর দিয়ে উড়িয়ে মারতে গিয়ে তিনি ধরা পড়লেন ফার্গুসনের হাতে। এরপর আর ম্যাচের বাকি থাকে কী! উইলিয়ামসনও বোধ হয় ভাবতে পারেননি বল হাতে এমন সাফল্য অপেক্ষা করছে তাঁর জন্য।

অভিষিক্ত তানবির হায়দারও উইলিয়ামসনেরই শিকার। জীবনের প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ। তাও আবার বিদেশের মাটিতে, দল বিপদে—এমন সময় দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে নিজেকে মেলে ধরতে ব্যর্থ তানবির। নুরুলের আগে ব্যাটিং করতে নেমেছিলেন, কিন্তু তিনি যে ভালো ব্যাটসম্যান, তা বোঝার সুযোগই দিলেন না। উইলিয়ামসনের বলটি এগিয়ে গিয়ে খেলতে গিয়ে লুক রনকির স্টাম্পিংয়ের ফাঁদে পা দিলেন। এখান থেকে ম্যাচে ফেরার কোনো সম্ভাবনাই ছিল না। মাশরাফি ও নুরুল যা করেছেন, যা কেবল পরাজয় বিলম্বিত করার চেষ্টা।

অধিনায়ক মাশরাফি ১৭ রান করেছেন। কিন্তু নুরুল হাসানের সঙ্গে একটি জুটি গড়ে তোলার চেষ্টা করেও সেটির অপমৃত্যু ঘটিয়ে এলেন ট্রেন্ট বোল্টের বলে মিড অফে উইলিয়ামসনের হাতে ক্যাচ দিয়ে।

এমন বিপর্যয়ের মধ্যে কেবল ইমরুল কায়েস ৫৯ রান করলেন। কিন্তু তিনিই হয়তো পড়বেন সবচেয়ে সমালোচনার মুখে। ওই মুহূর্তে অমন কঠিন রান নেওয়ার কোনো দরকারই ছিল না। এই রান আউটই পাল্টে দিল সব ছবি। কিন্তু একটা রান আউটের পর আরও ৯ জন ব্যাটসম্যানও তো ছিলেন!

ক্রিকেটকে বলা হয় অনিশ্চয়তার খেলা। এতে ঘটতে পারে অনেক কিছুই। মুহূর্তে ম্যাচের গতিপথ পাল্টে যাওয়ার নজির এই খেলায় অসংখ্য। কিন্তু নেলসনে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা আজ যা করলেন, সেটি অনিশ্চয়তার গৌরবের অপব্যাখ্যাই দিচ্ছে। এ যেন হারিকিরি! জেনে-শুনে বিষের পেয়ালায় চুমুক দেওয়া।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s