ঘরোয়া ক্রিকেট খেলে আসছেন সেই ২০০৬ সাল থেকে। দুই বছর আগে জাতীয় দলেও হয়েছে অভিষেক। কিন্তু বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলে জায়গাটা পাকাপোক্ত করতে পারেননি মোহাম্মদ মিঠুন। ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে টি-টোয়েন্টি দিয়ে বাংলাদেশ দলে অভিষেকের পর মাত্র দুটি ওয়ানডে ও ১২টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান।

মিঠুন বাংলাদেশের হয়ে সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি খেলেছেন মার্চে ভারতে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। শেষ ওয়ানডে খেলেছেন আরও আগে, ২০১৪ সালের জুনে। তবে টপ অর্ডার এই ব্যাটসম্যান ঘরোয়া ক্রিকেটে সবসময়ই ব্যাট হাতে আলো ছড়ান। গেল বিপিএলে রংপুর রাইডার্সের হয়ে দারুণ ছন্দে ছিলেন মিঠুন। ১২ ম্যাচে দুই হাফ সেঞ্চুরিসহ ৪৫.৭১ গড়ে করেছেন ৩২০ রান।

কিন্তু জাতীয় দলের হয়ে খেলতে গেলেই যেন খেই হারিয়ে ফেলেন মিঠুন। প্রতিযোগিতার ভিড়ে জাতীয় দলে জায়গা পাওয়াটা তার জন্য হয়ে উঠেছে বড় চ্যালেঞ্জের। যদিও মিঠন মনে করছেন, ক্রিকেটটাই তার কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, ‘ক্রিকেট মানেই চ্যালেঞ্জিং। আপনি যখন ব্যাটিং করবেন বোলারের সঙ্গে চ্যালেঞ্জ। যখন বোলিং করবেন তখন ব্যাটসম্যানের সাথে চ্যালেঞ্জ। আমরা আসলে চ্যালেঞ্জ নিয়ে অভ্যস্ত। ক্রিকেট খেলতে হলে চ্যালেঞ্জ নিতেই হবে। যেখানেই খেলি, যেভাবেই খেলি পারফরম্যান্স করতে চাই।’

ব্যাট হাতে ভালোই শুরু করতে দেখা যায় মিঠুনকে। কিন্তু ইনিংসটাকে বড় করতে পারেন না উইকেটরক্ষক এই ব্যাটসম্যান। ব্যাটিং টেকনিক বা মনোসংযোগ বাড়ানো উচিত বলে মনে করেন তিনি। মিঠুন বলেন, ‘ব্যাটিংয়ে প্রথম বল থেকে শেষ বল পর্যন্ত আপনাকে মনোসংযোগ রাখতেই হবে। আমাদের কোচ নাজমুল আবেদীন ফাহিম স্যার বলতেন ব্যাটিং হচ্ছে কাচের গ্লাসের মতো। হাত থেকে পড়ে গেলেই ভেঙে যায়। আমার মনোসংযোগে ঘাটতি থাকলে বাড়ানোর চেষ্টা করব।’

২০ ডিসেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে জাতীয় ক্রিকেট লিগ। ঘরোয়া এই আসরকে জাতীয় দলের ফেরার মঞ্চ হিসেবেই নিচ্ছেন খুলনা বিভাগের হয়ে খেলা মিঠুন। তিনি বলেন, ‘যারা আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে না তাদের জন্য তো ঘরোয়া লিগটাই প্রমাণ করার জায়গা। আমি তো আন্তর্জাতিক ম্যাচ না খেলে প্রমাণ করতে পারব না। আমি যেহেতু জাতীয় দলের বাইরে আছি, এখন আমার নিজেকে প্রমাণ করার প্রধান জায়গা হচ্ছে ঘরোয়া লিগ।’

ঘরোয়া ক্রিকেটে সাবলীল ব্যাটিংই করেন মিঠুন। সর্বশেষ বিপিএলে মিঠুনের ব্যাটিং দেখে বেশ কয়েকজন বিদেশি ক্রিকেটার বলেছেন, এমন একজন ব্যাটসম্যান কেন জাতীয় দলে নেই। তবে কি জাতীয় দলে গেলেই খেই হারান মিঠুন? ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান বলেন, ‘সব ম্যাচেই একইভাবে খেলার চেষ্টা করি। ঘরোয়া বা আন্তর্জাতিক যাই হোক আমি চেষ্টা করি একইরকম থাকতে। কিন্তু আন্তর্জাতিক এবং ঘরোয়া লিগ কখনোই এক না। চেষ্টা করছি ওই জিনিসটা যেন কাটিয়ে উঠতে পারি।’

Advertisements