ফাফ ডু প্লেসিসকে স্থায়ী টেস্ট অধিনায়ক করার ফিসফাস শোনা যাচ্ছিলো গেল কিছু দিন থেকেই। কিন্তু এবি ডি ভিলিয়ার্সের মতো একজনকে সরিয়ে দেওয়া সহজ নয়। এবার আর রাকঢাক না রেখে ডি ভিলিয়ার্স নিজে থেকেই সরে গিয়ে জায়গা করে দিলেন ডু প্লেসিকে।

ডি ভিলিয়ার্স সরে যাওয়ার ঘোষণা দিতেই নতুন অধিনায়ক হিসেবে ডু প্লেসির নাম ঘোষণা করতেও সময় নেয়নি বোর্ড। কনুইয়ের ইনজুরির কারণে সদ্য শেষ হওয়া অস্ট্রেলিয়া সফরে যেতে পারেননি ডি ভিলিয়ার্স। চোট না সাড়ায় খেলতে পারবেন না দেশের মাটিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আসছে টেস্ট সিরিজও। সেটি নিশ্চিত হওয়ার পরপরই জানিয়ে দিলেন নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত। ব্যক্তি স্বার্থের চেয়ে দলীয় স্বার্থকে বড় করে দেখেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, এমনটাই জানালেন ডি ভিলিয়ার্স।

এক বিবৃতে ৩২ বছরের ডি ভিলিয়ার্স বলেন, ‘দলের স্বার্থই সব সময় ব্যক্তিগত স্বার্থের চেয়ে এগিয়ে থাকা উচিত, সেটি আমিসহ। টেস্ট দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পাওয়াটা ছিল অনেক সম্মানের। কিন্তু আমি দুটি সিরিজ মিস করেছি, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজ নিয়েও সংশয় আছে। অস্ট্রেলিয়ায় অসাধারণ পারফরম্যান্সের পর দলের বৃহত্তর স্বার্থে পরিষ্কারভাবেই ডু প্লেসির টেস্ট অধিনায়কত্ব পাকাপাকিভাবে নিশ্চিত করা উচিত।’

ডু প্লেসিস ও ডি ভিলিয়ার্স সাদা পোশাকে দুজনেই উজ্জ্বল। ছবি: সংগৃহীত।

দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান নির্বাহী আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘দলের স্বার্থকে সামনে রেখেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এবি সবসময়ই নিজের থেকে দলকে এগিয়ে রাখেন। ’

চলতি বছরের শুরুতে দেশের মাটিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের মাঝামাঝি হঠাৎ করেই হাশিম আমলা দায়িত্ব ছাড়লে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পান ডি ভিলিয়ার্স। দুটি টেস্টে দায়িত্ব চালানোর পর ফেব্রুয়ারিতে পাকাপাকিভাবেই অধিনায়ক করা হয় তাকে। কিন্তু সেই ঘোষণার পর আর কোনো টেস্টে নেতৃত্বই দেওয়া হয়নি তার। নেতৃত্বের চার ইনিংসে ব্যাট করে তিনবারই আউট হয়েছিলেন শূন্য রানে। এরপরেই কনুইয়ের চোট। পাঠানো হল বিশ্রামে। কিন্তু শুধু বিশ্রামে চোট না সারায় অক্টোবরের শুরুতে বাম কনুইয়ে অস্ত্রোপচার করান ডি ভিলিয়ার্স। ধারণা করা হচ্ছিলো, ফিরতে পারবেন নভেম্বরেই। তবে সেটা হয়নি। পুরো সেরে উঠতে লাগবে আরও তিন-চার সপ্তাহ।

তবে টেস্ট ছাড়লেও ওয়ানডেতে অধিনায়কত্ব এখনও আছে ডি ভিলিয়ার্সের হাতেই। জানুয়ারিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ দিয়েই হয়তো ফিরবেন মাঠে।

২০০৪ সালে টেস্টে অভিষেক হওয়ার পরে ১০৬ টেস্ট ম্যাচে ৮ হাজারের বেশি রান করেছেন ডি ভিলিয়ার্স।

সূত্র: দ্যা গার্ডিয়ান

Advertisements