২০১৫ বিপিএলে ১০ ম্যাচে ৩৪৯ রান করে কুমার সাঙ্গাকারা ছিলেন ব্যাটসম্যানদের তালিকায় সবার ওপরে। এবার তাঁর রানটা গতবারের চেয়েও বেশি, ১৩ ম্যাচে ৩৭০। তবুও লঙ্কান কিংবদন্তির জায়গা হয়নি শীর্ষ তিনে! ১৩ ম্যাচে ৪৭৬ রান করে সবার ওপরে তামিম ইকবাল, ১৪ ম্যাচে ৩৯৬ করে দুইয়ে মাহমুদউল্লাহ ও ১৫ ম্যাচে ৩৭৭ রানে তিনে সাব্বির রহমান।

বোলিংয়ের শীর্ষ তিনে বিদেশি বোলার থাকলেও সেরা দুইয়ে থাকার সুযোগ ছিল শফিউল ইসলাম ও মোহাম্মদ শহীদেরও। চোটে ছিটকে পড়ায় সেটি সম্ভব হয়নি বাংলাদেশের দুই পেসারের। তবে এটা ঠিক, এবার বিপিএল স্থানীয়দের দাপটই বেশি। জাতীয় দলের তারকা খেলোয়াড়দের সঙ্গে আলো ছড়িয়েছেন তরুণেরাও। অনেক ‘অচেনা’ খেলোয়াড় চলে এসেছেন পাদপ্রদীপের আলোয়।

টুর্নামেন্টে স্থানীয় তরুণ খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে মুগ্ধ সাঙ্গাকারা। লঙ্কান কিংবদন্তি তো ভয়ই পাচ্ছেন, মার্চে শ্রীলঙ্কা সফরে বাংলাদেশের সামনে নিজ দেশ কেমন যে খেলে! বিপিএল ফাইনালের নায়ক কাল ম্যাচ শেষেই বললেন, ‘যেভাবে বাংলাদেশে দুর্দান্ত তরুণ খেলোয়াড়েরা উঠে আসছে কিছুটা ভয়ই পেয়েছি! শ্রীলঙ্কার জন্য সিরিজটা কঠিনই হবে।’

সাঙ্গাকারা উচ্ছ্বসিত বাংলাদেশের তরুণ প্রতিভাদের নিয়ে, ‘বাংলাদেশের স্পিন মজুদ ভালো, পেস আক্রমণ ভালো। সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে ফিটনেসে। যেভাবে তরুণ ব্যাটসম্যান বেরিয়ে আসছে, সেটা খুবই রোমাঞ্চকর বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে তারা দুর্দান্ত। সবাই টেস্টেও ভালো করবে। আশা করি এটা বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক হবে।’

অসাধারণ নেতৃত্ব দিয়ে রাজশাহী কিংসকে ফাইনালে তুলেছেন ড্যারেন স্যামি। দুবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপজয়ী এই ক্যারিবীয় অলরাউন্ডারও মুগ্ধ টুর্নামেন্টে স্থানীয় তরুণ খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে, ‘টুর্নামেন্ট থেকে অনেক তরুণ খেলোয়াড় বেরিয়ে এসেছে। এটা বাংলাদেশের জন্য ভালো। তরুণেরা সিনিয়র ও বিদেশি খেলোয়াড়দের কাছে আসছে, শিখছে।’
বড় তারকাদের ছায়ায় পড়ে না থেকে নিজেদের দারুণভাবে চেনানো—অনেক নেতিবাচক খবরের ভিড়ে এই বিপিএলের প্রাপ্তি বোধ হয় এটাই।

Advertisements